ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সিলেট নগরীর সুরমা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত কাজিরবাজার সেতু বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্য দিয়ে উন্মেচিত হলো যোগাযোগের নতুন দ্বার। সেতুবন্ধন হলো সুরমার উত্তর দক্ষিণের বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, তাদের সরকারের আমলে কেবল প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কাজিরবাজারের মতো এমন অনেক ব্রীজ আছে-যেগুলোর পিলার তোলার পর আর কোন কাজ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন- সম্পন্ন...
সিলেট এসে গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চান প্রধানমন্ত্রী!
আবার যখন সিলেটে আসবেন, তখন গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন ইচ্ছাই ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি বিভিন্ন সময় সিলেট গেলেও গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খাওয়া হয়নি কখনো। এজন্য আমার আফসোস আছে। আমি আগামীতে সিলেট গেলে গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সিলেটে সুরমা নদীর উপর নির্মিত কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধনকালে তার এই ইচ্ছের কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধন ও সিলেটের বিমানবন্দর-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন....
কেক দিয়ে সিলেটি নাদিয়ার ব্রিটেন জয়
লন্ডন: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ বেকিংয়ের এবারের শিরোপা জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হোসেইন। গতকাল বুধবার ছিল যুক্তরাজ্যের তুমুল জনপ্রিয় টিভি প্রতিযোগিতা (রিয়েলিটি শো) ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ ২০১৫ (জিবিবিও)’-এর ফাইনাল রাউন্ডন। প্রতিযোগিতাটি রাতে যখন বিবিসি ওয়ান চ্যানেলে দেখানো হচ্ছিল, তখন প্রায় দেড় কোটি দর্শক ছিলেন উদগ্রীব হয়ে। তিন প্রতিযোগীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত নাদিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লেন। রানারআপ হয়েছেন ইয়ান কামিং ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত...
নতুন রুবেলদের সন্ধানে আবারো আসছে বিসিবির ‘পেসার হান্ট’
জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেন এক সময় ছিলেন পাদপ্রদীপের অন্তরালে, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ‘পেসার হান্ট' নামক কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রচারের আলোয় আসেন রুবেল হোসেন। এবার নতুন রুবেলদের সন্ধানে আবারো পেসার হান্ট কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। বুধবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পেসার হান্ট কার্যক্রমটা আমরা আবারো শুরু করতে যাচ্ছি। এবার এ কার্যক্রমে স্পন্সর হিসেবে পাচ্ছি ‘রবি’কে। তবে, কবে থেকে পেসার হান্ট শুরু হবে তা এখনো চুড়ান্ত...
শিশু রাজন খুন: বাদিপক্ষের সাক্ষী সাফাই গাইলেন আসামিপক্ষের!
সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় সাক্ষী দিতে এসে ভোল পাল্টালেন ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া। তিনি কুমাগাঁও রাজন হত্যার ঘটনাস্থলের ব্যবসায়ী। তাই তাকে ওই মামলার চার্জশিটে বাদি পক্ষের সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু আজ সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে সাক্ষী দিতে এসে আসামিপক্ষের হয়ে কথা বলেছেন তিনি। পরে বাদি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে বৈরী ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে গ্রেফতারতৃত ১০ আসামির উপস্থিতে বাদি পক্ষের ৫ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণের শুরুতেই রাজনের মায়ের ...
‘কাজিরবাজার সেতু সাইফুর রহমানের সময়োপযোগী উদ্যোগের সোনালী ফসল’
সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘নব উদ্বোধন হওয়া নগরীর কাজিরবাজার সেতু সফল অর্থমন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের সময়োপযোগী সাহসী উদ্যোগের সোনালী ফসল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আওয়ামী লীগের চিরাচরিত অভ্যাস “তোরা যে যা করিস ভাই, শুধু নামটি আমার চাই” এই নীতির কারনে আজ সাইফুর রহমানের অবদান একবারের জন্যও স্বীকার করা হলোনা। ইতিহাস স্বাক্ষী সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নের রূপকার অর্থমন্ত্রী মরহুম এ....
বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
ছাতকে শিবমন্দির পরিদর্ষনে বঙ্গবন্ধু ছাত্রপরিষদ ছাতক উপজেলা শাখা
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৫
শিশু রাজন হত্যা: আসামি কামরুলকে দেশে আনা হচ্ছে বৃহস্পতিবার
ইতোমধ্যে কামরুল ইসলামকে আনতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত সুপার মাহাবুবুল করিম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার এএফএফ নেজাম উদ্দিন সৌদি গেছেন।
সোমবার তারা রিয়াদে পৌঁছান। রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা সৌদি যান।
পুলিশ জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যম হয়ে বন্দি বিনিময়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আসামি কামরুলকে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে।
শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর সৌদি আরব পালিয়ে গিয়ে গত ১৩ জুলাই আটক হন কামরুল। এরপর থেকে তিনি সৌদি পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে ভ্যান চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।
নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করেন হত্যাকারীদের সহযোগীরা। তারা নিজেরাই সেই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ও গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে সরব হলে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।
এর মধ্যে মুহিদের ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুলের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি সৌদি পালিয়ে যান। কিন্তু ১৩ জুলাই সৌদি প্রবাসীরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আগুনের নগরী হবে সিলেট
মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পের একটা ধাক্কায় এমন চিত্রই
হতে পারে সিলেটের। ধসে পড়বে অন্তত ১০ হাজার ভবন।
ভবন ধসে যত না ক্ষতি হবে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে
অপরিকল্পিতভাবে বিস্তৃত বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে, গ্যাসের
পাইপ ফেটে আগুন সৃষ্টিতে। অসহায়ভাবে তখন দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ও
দমকলের। মানচিত্রে বিরান এক ভূমি হিসেবেই চিত্রিত
হবে সিলেট। দেশের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত
সিলেটে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন কেবলই ভয়ের জন্ম
দিচ্ছে। সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস সংশ্লিষ্টরা
বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে
সামনে। ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী,
ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় প্রতি একশ বছরে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সিলেট অঞ্চলে এ ধরনের ভূমিকম্পের পর পেরিয়ে গেছে ১শ
বছরের বেশি সময়। ১৮৯৭ সালের সে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি ‘বড়
ভইছাল’ নামে সিলেট অঞ্চলে এখনও আতঙ্ক জাগানিয়া গল্প
হয়ে আছে। রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ‘বড়
ভইছালের’ গল্পও হার মানবে।
ভূমিকম্প তো নয়ই, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সামাল দেয়ার সামর্থ্যও নেই সিলেটে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর।
সিলেটে এখন আকাশছোঁয়া ভবন তৈরি হচ্ছে একের পর এক। এর মধ্যে ১০ তলার ওপরে হাজারখানেক ভবন আছে নগরজুড়ে।
কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের সামর্থ্য নেই তাদের সরঞ্জাম
দিয়ে ৫ তলার বেশি উঁচু আগুন নিয়ন্ত্রণের। এমন অবস্থায়
বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে একটি ফায়ার
স্টেশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আর শনিবার
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উদ্বোধন হয় নতুন আরও একটি ফায়ার স্টেশনের। সিলেট বিভাগে নতুন দুটো দমকল ইউনিট
যোগ হলেও আদতে শক্তি বাড়েনি ফায়ার সার্ভিসের।
জানা গেছে, বিভাগের অন্যান্য ফায়ার স্টেশনের সঙ্গে
শক্তি ভাগাভাগি করে আপাতত কাজ চালাতে হবে নতুন এ দুটো
ফায়ার স্টেশনকে। সিলেট বিভাগে ১৯টি ফায়ার স্টেশনের মধ্যে একমাত্র
সিলেট সদর ফায়ার স্টেশনই ‘এ’ ক্যাটাগরির। বাকিগুলোর
মধ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ (ওসমানীনগর),
জকিগঞ্জ; সুনামগঞ্জের সদর উপজেলা ও ছাতক;
মৌলভীবাজারের সদর উপজেলা, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও
বড়লেখা; হবিগঞ্জের সদর উপজেলা ও মাধবপুর ফায়ার স্টেশনগুলো ‘বি’ ক্যাটাগরির। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির ফায়ার
স্টেশনের মধ্যে রয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও
বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, মৌলভীবাজারের
কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও শায়েস্তাগঞ্জ। পুরো সিলেট বিভাগে ফায়ার সার্ভিসের কোন রিভার
স্টেশন নেই। সিলেটে কোন রিভার স্টেশন না থাকায় নৌ
দুর্ঘটনায় একেবারে অসহায় পড়ে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার
অভিযানের জন্য বিভাগে কোন ডুবুরি নেই। নারায়ণগঞ্জ ও
চাঁদপুর থেকে চেয়ে আনা দুই ডুবুরিই পুরো বিভাগের ভরসা।
রিভার স্টেশন তো নেই-ই, এমনকি উদ্ধার অভিযানের জন্য কোন স্পিডবোটও নেই। দুর্ঘটনা হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে
অনুরোধ করে নৌকা জোগাড় করে তবেই অভিযানে নামতে হয়।
নদী ও হাওর-বাঁওড়ে ঘেরা সিলেটে রিভার স্টেশনের
প্রয়োজনীয়তা প্রতি মুহূর্তেই অনুভব করছেন বিভাগজুড়ে
ছড়িয়ে থাকা কোটি মানুষ। সিলেট ফায়ার স্টেশনটি নামেই শুধু ‘এ’ ক্যাটাগরি।
সুবিধার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে অনেকখানি। ‘বি’
ক্যাটাগরির অবকাঠামোতেই চলছে সিলেট ফায়ার
স্টেশনের কাজ। স্টেশনটিতে শরণার্থীদের মতো
গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে ফায়ারম্যানদের। কর্তাদের
বসার জায়গাও হয় না সেখানে। অফিস করতে হচ্ছে ভাড়া বাসায়। নগরীর খুলিয়াটুলায় একটি ভবনের দুটো ফ্ল্যাট
ভাড়া নিয়ে চলছে বিভাগীয় অফিসের কার্যক্রম। সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যতটুকু
সামর্থ্য রয়েছে তারও পূর্ণ সদ্ব্যবহার হচ্ছে না লোকবলের
অভাবে। বিভাগ পর্যায়ের শীর্ষ পদটিই শূন্য পড়ে আছে
এখানে। সহকারী পরিচালক সাহিদুর রহমান বাড়তি
দায়িত্ব হিসেবে সামলাচ্ছেন উপ-পরিচালকের পদটিও।
বিভাগের ১৯টি ফায়ার স্টেশনের ১৩টিতেই স্টেশন অফিসার নেই। অন্যান্য পদের ক্ষেত্রেও শূন্যতা রয়েছে।
ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টরের ৬টি পদের দুটি পদে নিয়োগ
নেই। জেলাওয়ারি ৪টি স্টাফ অফিসারের সব ক’টি পদই শূন্য
রয়েছে। সাব অফিসারের ১০টি পদের মধ্যে ২টি খালি পড়ে
আছে। এছাড়া লিডারের ৬টি, ড্রাইভারের ১১টি ও
ফায়ারম্যানের ৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এমনকি শূন্যতা রয়েছে নন-অপারেশনাল ও চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোতেও। বিভাগীয় সদর দপ্তর না থাকায়ও ভুগতে হচ্ছে সিলেটে
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে। জায়গার অভাবে
অনেক উপকরণই অযত্নে পড়ে আছে। আবার জায়গা না থাকায়
প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণ আনাও যাচ্ছে না। অবশ্য সিলেট
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, সদর দপ্তরের জন্য
জায়গার সন্ধান চলছে। অন্তত ৩ একর জায়গা প্রয়োজন জানিয়ে সহকারী পরিচালক
সাহিদুর রহমান জানান, নগরীর মধ্যে এ পরিমাণ জায়গা
পাওয়া যাবে না, তাই আমরা নগরীর কাছাকাছি জায়গা
খুঁজছি। নিজেদের সামর্থ্য যে কম, তা মানছেন সাহিদুর
রহমানও। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের যত ক্ষমতাই
থাকুক না কেন, একা আমাদের কিছু করার নেই। জনগণেরও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের ৫
হাজারের মতো অপারেশেনাল কর্মী আছেন। কোন বড় বিপর্যয়
দেখা দিলে তাদের সবাইকে জড়ো করলেও সামলানো সম্ভব
নয়। তিনি বলেন, এজন্য আমরা ভলান্টিয়ার হিসেবে
সাধারণ মানুষের মাঝেই আমাদের কর্মী তৈরি করছি।
সাহিদুর রহমান তথ্য দেন, ইতিমধ্যে শুধু সিলেট নগরীতেই ৫ হাজার ভলান্টিয়ার তৈরি করা হয়েছে।
বিপিএলে সিলেটের ক্রিস গেইল, ঢাকার সাঙ্গাকারা
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে সদ্য অবসরে যাওয়া শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারাকে দলে ভেড়াতে যাচ্ছে ঢাকার ফ্রাঞ্চাইজিরা। ইতিমধ্যে তারা নাকি চুক্তিও করে ফেলেছে। অন্যদিকে ক্রিস গেইলের সঙ্গে কথা পাকাপাকি করেছে সিলেটের ফ্রাঞ্চাইজি।
এর আগে ক্রিস গেইল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের হয়ে খেলেছিলেন। সেমিফাইনালে তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছিল ঢাকা। ফাইনালে তিনি না খেললেও ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স হয়েছিল দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন।
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫
‘কাজিরবাজার সেতু সাইফুর রহমানের সময়োপযোগী উদ্যোগের সোনালী ফসল’
আবদুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কয়েক দফা নকশা পরিবর্তন করে সেতুটির যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করলেও একটি বারের জন্য এর স্বপ্নদ্রষ্টা মরহুম সাইফুর রহমানের নাম স্মরণ করেননি। যা সিলেটবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণের শামিল। এর মাধ্যমে দলগত মত পার্থক্য থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সিলেটের সহনশীলতার রাজনীতির ইতিহাসে কলংকের কালেমা লেপন করেছে আওয়ামী লীগ। সত্য স্বীকার করে সেতুটির নাম সময়ের শ্রেষ্ট সিলেটপ্রেমী মরহুম সাইফুর রহমানের নামে নামকরণ হলে সিলেটবাসী উচ্ছাসিত হবে।’
আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেরা উন্নয়ন করতে না পারলেও নামকরণে পটু। সিলেট শহরকে একটি আদর্শ ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মরহুম এম. সাইফুর রহমান কার্যকর উদ্যোন নিয়েই ক্ষান্ত হননি। কাজ সম্পন্ন করে সফল হয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ থেকে সাইফুর রহমানের নামফলক ভেঙ্গে দেয়া, নাম বাতিল করার অপরাজনীতির জন্য আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে জনতার আদালতে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’
কেক দিয়ে সিলেটি নাদিয়ার ব্রিটেন জয়
তিন প্রতিযোগীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত নাদিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লেন। রানারআপ হয়েছেন ইয়ান কামিং ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তমাল রায়।
ব্রিটিশ কমেডিয়ান জো ব্র্যান্ডের হাত থেকে সেরার পুরস্কার নেন নাদিয়া। কেক-পেস্ট্রি তৈরির এই প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে ‘ক্ল্যাসিক ব্রিটিশ কেক’ বানাতে গিয়ে নাদিয়া বেছে নিয়েছিলেন বিয়ের কেক।
পরে প্রতিক্রিয়ায় নাদিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশে বিয়েতে কেকের প্রচলন খুব কম। আমার স্বামী আবদাল হোসেইন ও তিন সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী কেক বানিয়েছি।’
রানারআপ হওয়া তমাল ও ইয়ানও বলেছেন, নাদিয়ার পাওনা ছিল এই পুরস্কার।
ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার এটি ছিল ষষ্ঠ সিজন। চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন- ব্রিটিশ বেকের দুই জনপ্রিয় মুখ পল হলিউড ও ম্যারি ব্যারি।
তারা দুজনই বলেছেন, নাদিয়া শুরু থেকেই আশার আলো দেখিয়েছেন। প্রতিটি পর্বে তার একাগ্রতার ছাপ ছিল। এক কথায় অনন্য নাদিয়া।শখের বশে কেক-পেস্ট্রি তৈরি করেন— এমন প্রতিযোগীদের নিয়েই এ আয়োজন। ধাপে ধাপে বাছাই শেষে ১২ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১০ সপ্তাহের এই প্রতিযোগিতা। এরপর তিনজন প্রতিযোগী উত্তীর্ণ হন চূড়ান্ত পর্বে।
সেই তিনজনকে নিয়েই বুধবারের এই আসরে সেরা হলেন প্রথম কোনো বাংলাদেশি। লন্ডনের অদূরে লুটন শহরে জন্ম নেওয়া নাদিয়ার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামে।
রাজন হত্যা মামলা: তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দিচ্ছেন ৪ জন
তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দেবেন স্থানীয় বাদেয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ইশতিয়াক আহমদ রায়হান, নিজাম উদ্দিন, অনন্তপুর গ্রামের আব্দুজ জাহির মেম্বর ও শেখপাড়ার বাসিন্দা পংকী মিয়া।
এর আগে ১ অক্টোবর এই আদালতে রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও জালালাবাদ থানার বরখাস্ত এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
এছাড়া ৪ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ওই দিন রাজনের মা লুবনা বেগমসহ চারজন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য দেন।
আদালত সূত্র জানায়, আগামী ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবরও সাক্ষ্য নেওয়া হবে। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জন।
গত ৮ জুলাই ভোরে ‘চোর’ সন্দেহে শিশু রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার গত ১৬ আগস্ট ১৩ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
পরে ২২ সেপ্টেম্বর আদালতের বিচারক চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় সৌদি আরবে আটক কামরুলসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় চার্জ গঠন করেন।
এদিন আদালতের বিচারক মামলার বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্নে ১, ৪, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সিলেট নগরীর সুরমা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত কাজিরবাজার সেতু
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্য
দিয়ে উন্মেচিত হলো যোগাযোগের নতুন দ্বার। সেতুবন্ধন হলো সুরমার উত্তর
দক্ষিণের বাসিন্দাদের মধ্যে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, তাদের সরকারের আমলে কেবল প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কাজিরবাজারের মতো এমন অনেক ব্রীজ আছে-যেগুলোর পিলার তোলার পর আর কোন কাজ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন- সম্পন্ন করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেট নগরীর সুরমা নদীতে কাজিরবাজার সেতুর উদ্বোধন এবং বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিক
প্রধানমন্ত্রী সিলেট নগরীকে পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করছেন। সিলেট বিভাগীয় সদরের স্থাপনা আওয়ামী লীগ সরকার নির্মাণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেট জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দেশের বাইরে থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তার পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় আক্ষেপ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার এমপি আল আমিন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।
এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেটের কুশিয়ার নদীর ওপর নির্মিত চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু ও সুনামগঞ্জে সুরমার ওপর নির্মিত সুরমা সেতুসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নয়টি সেতু উদ্বোধন করেন।
সওজ সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকায় কাজির বাজার নামকস্থানে সুরমা নদীর উপর ১৮৯ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত ‘কাজির বাজার পিসি গার্ডার সেতু’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের এপ্রিলে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। কিন্তু পরিকল্পনা ও ডিজাইন ছাড়া কাজ শুরু হওয়ায় কিছুদিন পরেই থেমে যায় সেতুটির নির্মাণ কাজ। এক পর্যায়ে এটা পরিত্যাক্ত সেতুতে পরিণত হয়।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নতুন ডিজাইন ও প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে পুণরায় সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজ সিলেটবাসীর এই কাঙ্খিত সেতুটি উদ্বোধনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে। কাজিরবাজার পিসি গার্ডার সেতুর উপর দৈর্ঘ্য ৩৯১ মিটার। ১৮ দশমিক ৯০ মিটার প্রস্তের সেতুটির স্পেন সংখ্যা ১০টি। রয়েছে ৯টি পিয়ার ও ২টি এবাটমেন্ট। সেতুর উভয় দিকে অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে ৮৬৫ মিটার। এর মধ্যে সেতুর উত্তর প্রান্তে ২৩০ মিটার ও দক্ষিণ সুরমা প্রান্তে রয়েছে ৬৩৫ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক। পাইল ফাউন্ডেশনের উপর নির্মিত পিসি গার্ডার এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তÍর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর।
তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যরিস্টার নাজমুল হুদা এর ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে সম্পন্নের কথা ছিল। সেতুর কাজ চলমান থাকাকালে ওয়ান ইলেভেনের সময় হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করে। এজন্যে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। প্রকল্প ব্যয় বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে তা দাঁড়ায় ১৮৯ কোটি ৭ লাখ টাকায়। এ সময় নগরীর শেখঘাটে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়ি রক্ষা করার জন্য সেতুর নকশা বদলও করা হয়। এ ছাড়া সেতুর দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয় ২৫ মিটার। সে সময় ব্যয়ও বাড়ে।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ১২৪ কোটি টাকা। অবশ্য এজন্য সেতুর প্রস্থ ১৯ মিটার থেকে কমিয়ে ১৮ দশমিক ৪ মিটার করা হয়। তবে দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ৩৯১ মিটারে উন্নীত করা হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজ হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক সেতু দেখতে ছুটে যাচ্ছেন।
সেতুর নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকবার সেতু পরিদর্শন করেন জানায় সওজ সূত্র।
২০১৪ সালের বিজয় দিবসের উপহার হিসেবে সেতুটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা হয়নি। তিন দফা তারিখ পেছানোর পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী সেতুটির উদ্বোধন করেন।
অন্যদিকে ৯ বছর ধরে বেহাল দশায় রয়েছে সিলেটের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ। সড়কটির উন্নয়নে উপজেলাবাসীর দাবি দীর্ঘদিনের। গত বছরে যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কটিকে ক্যান্সার আক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করেন। এ অবস্থায় রাস্তাটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করে গত ৭ এপ্রিল ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রকল্পটির দরপত্র আহবান করা হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। আগামী ৩ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে জানায় সওজ সূত্র।
সিলেট এসে গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চান প্রধানমন্ত্রী!
আবার যখন সিলেটে আসবেন, তখন গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন ইচ্ছাই ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী
বলেছেন, ‘আমি বিভিন্ন সময় সিলেট গেলেও গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খাওয়া হয়নি
কখনো। এজন্য আমার আফসোস আছে। আমি আগামীতে সিলেট গেলে গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা
খেতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সিলেটে সুরমা
নদীর উপর নির্মিত কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধনকালে তার এই ইচ্ছের কথা বলেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধন ও সিলেটের
বিমানবন্দর-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও
কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। ভিডি কনফারেন্সে দেশের বাইরে থাকা অর্থমন্ত্রীও
বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে পিলার গেড়ে নাটক
করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। সেতু নির্মাণসহ সিলেটের যতো
উন্নয়ন হয়েছে সব আওয়ামী লীগ করেছে। আগামীতেও সিলেটের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ
সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’ ভিডিও কনফারেন্সে সিলেট থেকে বক্তব্য রাখেন
সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। এসময় সিলেট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন
কক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাংসদ ইমরান আহমদ, মাহমুদ-উস- সামাদ
চৌধুরী কয়েস, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাবেক
সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা।মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫
রাতারগুল: পা ধরলেন ভক্ষক, ছেড়ে দিলেন রক্ষক!
বন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে বনটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে একটি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও। যার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা নয়, উল্টো বন ভক্ষনের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, কাঠ পাচারকারী নৌকার মাঝি স্থানীয় মহেষখেড় গ্রামের ইসলাম উদ্দীন পা ধরে আছেন এনজিও ক্রেলের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের। এ সময় শহীদুলের সঙ্গে থাকা নৌকার মাঝি রাতারগুল গ্রামের সোনা মিয়া ছবিটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সোনা মিয়া ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রাতারগুল বনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাতারগুল গ্রামবাসীর। এ কারণে শহীদুল ইসলাম আমাকে নিয়ে বনের ভেতরে টহলে বের হন। আমরা বিট অফিসের সামনে যাওয়ার পর দেখি একটি নৌকায় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে পাশের মহেষখেড় গ্রামের ইসলাম উদ্দীন। তাকে আমরা আটক করি। এ সময় শহীদুল ইসলামের নির্দেশে কাঠবোঝাই নৌকা থেকে দা উদ্ধার করি। পরে ইসলাম উদ্দীন ও শহীদুল ইসলামের আলাপচারিতায় ধারণা হয়, তারা পূর্বপরিচিত। তখন শহীদুল ইসলাম মহেষখেড় গ্রামের দুজন ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। খুব সম্ভবত মহেষখেড় গ্রামের রাতারগুল রক্ষার নামে একটি কমিটির মেম্বার আবদুল্লাহ অথবা সোহেল হবে। এরপরই ইসলাম উদ্দীন শহীদুলের পা ধরলে তিনি তাকে কাঠবোঝায় নৌকাসহ ছেড়ে দেন।’
সোনা মিয়া বলেন, ‘আমি শহীদুল ইসলামের কাছে ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাই এবং গাছ পাচারকারী ইসলাম উদ্দীনকে বিট অফিসে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহীদুল ইসলাম তাকে ছেড়ে দেন। এ ঘটনার পরদিন আমি একসময় ফরেস্ট অফিসে যাই এবং বিষয়টি বিটের দায়িত্বে থাকা হুমায়ূন (বর্তমানে মৃত) এবং গার্ড ইসহাককে জানাই। তারা আমাকে বলেন, যেহেতু শহীদুল ছেড়ে দিয়েছেন, সেহেতু আমাদের আর কিছু করার নাই। পরে আমার হাতে জব্দ থাকা দা’টি ফরেস্ট অফিসে জমা দিয়ে ফিরে আসি।’
এনজিও ক্রেলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাউকে আটকের দায়িত্ব নেই। আমি বন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করি। তাই ওই দিন পরিদর্শনের সময় নৌকাসহ পাচারকারীকে পাই। তারপর তাকে বলি, এভাবে তোমরা গাছ কাটলে বন ধ্বংস হয়ে যাবে, পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তোমরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না।’
গাছসহ পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন শহীদুল। গাছ কাটার দা’টি তাঁর নৌকার মাঝি সোনা মিয়া বন বিভাগের বিট অফিসে জমা দেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে রাতারগুল গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, রাতারগুল বনের ভেতরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবাধে গাছ নিধন, অবৈধভাবে মাছ আহরণসহ নানা অপকর্ম চলছে। পাশাপাশি বন দেখতে আসা পর্যটকরাও খাবারের পলিথিন ফেলে, গাছের ডালপালা ভেঙে, উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে এবং ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে প্রবেশ করে বনের পরিবেশ দূষণ করছে।
রাতারগুল রক্ষায় একটি আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভূমি সন্তান বাংলাদেশ’ রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, ‘রাতারগুল বন একটি বিশেষ ধরনের বন। শুরু থেকেই সিলেটের সর্বস্তরের পরিবেশকর্মীরা সরকারের কাছে এই বন রক্ষায় বিশেষজ্ঞ মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু বন বিভাগ এই বন রক্ষার চেয়ে প্রকল্প নিয়ে বেশি ব্যস্ত। তাই তাদের কাছে এই গাছ কাটা বা বন বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ মুখ্য বিষয় নয়। কেননা এই বনটিকে তারা একটি পুরোদস্তুর পর্যটন কেন্দ্র বানানোর পাঁয়তারা করছে। অথচ এই বনটি পর্যটন কেন্দ্রের চেয়ে একটি প্রাকৃতিক জাদুঘর হওয়া উচিত। যেখানে বন গবেষণা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চলবে।’
আশরাফুল আরো বলেন, ‘বন বিভাগ এবং ক্রেল প্রকল্পবাজির জন্যই এই বনে কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই বন বাংলাদেশের অন্যান্য বনের চেয়ে ভিন্ন। তাই এখানে কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া ক্রেল এই কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করতে কোনো ধরনের পরিবেশ কর্মী বা পরিবেশ বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়নি। শুধু শহীদুল নন, ক্রেলের আরো বড় যত কর্মকর্তা আছেন, সবাই বনদস্যুদের বন্ধু। কেননা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা যখন বনদস্যুদের আটক করে, তখন ক্রেলের কর্মকর্তারা তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন। তাহলে তাঁদের নিয়ে বন বিভাগ কীভাবে এই রাতারগুল রক্ষায় কাজ করছে?’
রাতারগুল পরিদর্শনের সময় ওই গ্রামের অনেকেই জানান, এই ঘটনার আগেও আরো একাধিকবার গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। গেল ২৯ সেপ্টেম্বর বিট অফিসে ক্রেল একটি সভার আয়োজন করে। সেখানে ক্রেলের কর্মকাণ্ড ও রাতারগুল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাতারগুল গ্রামের ঈসমাইল মিয়া ক্রেলের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সে মুহূর্তে ক্রেল ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন। পরে তিনি সভাটি প্রত্যাখ্যান করে বের হয়ে আসেন। বাইরে বেরোনোর পর শব্দ শুনে অফিসের পেছনে গেলে দেখেন দুজন ব্যক্তি বনের গাছ কাটছেন। তখন তিনি তাঁদের মারধর করেন। একপর্যায়ে সভাস্থল থেকে ক্রেলের সাইট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বের হয়ে আসেন। এ সময় তিনি ঈসমাইল মিয়াকে বলেন, ‘ওরা গরিব লোক, ভুল করে ফেলেছে। আর কখনো আসবে না, তাদের ছেড়ে দিন।’
তবে এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ক্রেলের কার্যক্রম নিয়ে রাতারগুল এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছিল আমাদের। তবে ওই দিন গাছ কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটলেও সে বিষয়ে আমি জানি না।’
প্রসঙ্গত, ইউএসআইডির একটি প্রকল্পের আওতায় ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইকো সিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) নামক এনজিও সংস্থাটি রাতারগুলে বন বিভাগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পের কাজ করছে।
-এনটিভি অনলাইন
শিশু রাজন খুন: বাদিপক্ষের সাক্ষী সাফাই গাইলেন আসামিপক্ষের!
প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ী মাসুক মিয়ার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার সাবেরগাঁওয়ে। রাজন হত্যার প্রধান আসমি কামরুলের গ্যারেজের পাশে একটি দোকান রয়েছে তার। তাই ওই মামলায় পুলিশ ১৬১ ধারায় তার জবানবন্দি নিয়েছিল।
ব্রিটিশ মুসলিমদের গর্ব বাঙালি কন্যা নাদিয়া
তিন সন্তানের জননী, সদালাপী, চৌকস, চিত্তাকর্ষক হাসির অধিকারিণী ও হিজাব পরিহিত নাদিয়া এ সপ্তাহের ‘বিবিসি সেরা ব্রিটিশ বেকার’ পুরষ্কারের জন্য হট ফেভারিট বলে বিবেচিত হচ্ছেন।
ফলে যারা নাদিয়াকে চোখের সামনেই স্কুলবালিকা থেকে উদীয়মান টিভি তারকায় পরিণত হতে দেখেছেন তারা গর্বে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন।
বেডফোর্ডশায়ার শহরে নাদিয়া হোসেনের পরিবারের ৩৯ বছর বয়সী প্রতিবেশী দিপালি প্যাটেল বলেন, ‘স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকেই সে কেক তৈরি করতো এবং তার বানানো ‘গাজর কেক’ দারুন সুস্বাদু। সে খুব ভালো মেয়ে। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত।’
ছোট্ট শহরটির মেয়েটি ভালো করছে বলে গর্ব হচ্ছে-বিষয়টা শুধু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লিউটনের মুসলিম সম্প্রদায় তাকে নিয়ে গর্বিত এ কারণে যে তাদেরই একজনকে নিয়ে কোনো খারাপ প্রচারণা বদলে দেশজুড়ে আলোচনা হচ্ছে।
শহরটিতে অভিবাসী জনসংখ্যা প্রচুর। বিশেষকরে ঊনিশ’ পঞ্চাশের দশক থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এখানে এসে বহু পরিবার বসতি স্থাপন করেছে।
ত্রিশ বছর বয়সী নাদিয়া যেখানে বেড়ে উঠেছেন সেই বারি পার্কের আশেপাশেই রয়েছে বহু হিন্দু ও মুসলিম, ভারতীয়, বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি। তারা এখানে ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছেন এবং একত্রে বসবাস, খাওয়া-দাওয়া, কাজকর্ম এবং নামাজ আদায় করছেন।
এই শহরের ডানস্টাবল রোডের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় উজ্জ্বল রঙের শাড়ি আর বড় থলে ভর্তি চাল-যা অনেক এশীয়র প্রিয়।
লুটনের অনেকের কাছে হিজার পরিহিত মেয়েটি দারুণ পরিচিত। তার নিমকি, চকোলেট আর উদ্ভাবনশীল চিজকেক তৈরির দৃশ্য যখন টিভিতে সম্প্রচার হয়েছে তখন তা তাদের কাছে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
গত সপ্তাহে রেডিও টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নাদিয়া বলেন, আমি প্রথাগত কোনো ব্রিটিশ না হলেও এর মানে এই নয় যে পতাকা, কেক বা চায়ে আমি নেই। আমি অন্য ব্রিটিশদের মতই এবং আমি আশা করি আমি সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’
বুধবারের চূড়ান্ত পর্বে নাদিয়ার সফলতায় লুটনের তরুণী মুসলিমরা, বালিকারা দারুণ উজ্জীবিত। নাদিয়ার মতই হিজাব পরছেন বেডফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যিালয়ের আর্টের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো। তারা উভয়ই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
হিজাব পরা একজন তরুণীকে কেক তৈরির অনুষ্ঠানে দেখে মো-এর মত অনেকে ব্রিটিশই বিস্মিত হয়েছেন।
নাদিয়ার স্বামী আবদাল একজন কারিগরি ব্যবস্থাপক। সন্তানদের নিয়ে তারা লিডসে বাস করেন।
উন্নত জীবনের আশায় ব্রিটেনে এসেছিলেন তারা। নাদিয়া চালনি গার্লস হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। স্কুলটি তার বাসা থেকে সামান্য পায়ে হাঁটার দূরে অবস্থিত।
তারে সাবেক শিক্ষক নাদিয়াকে একজন মনোযোগী এবং নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রী হিসেবে বর্ণনা করেন। স্কুল শিক্ষক জন মার্শালের কাছে থেকে প্রথম পাচকগিরি শেখেন নাদিয়া।
নাদিয়া জানান, বাংলাদেশের রেস্তোরাঁয় সাধারণত আইসক্রিম পরিবেশন করা হয় না। কিন্তু তারা বাবা যখন লুটনে তার রেস্তোরাঁয় এটি সরবরাহ করতেন তাতে তিনি অবাক হতেন।
পরে জন মার্শাল নাদিয়াকে তার বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ কেক, প্যাস্ট্রি ও পুডিং তৈরির উৎসাহ দেন যদিও নাদিয়াদের বাসায় তখনও কোনো ওভেন ছিল না।
পরে তার উৎসাহে নাদিয়া বাড়িতে এসব তৈরি শুরু করলে তার পরিবার খুশি হয়, বিশেষ করে তার ভাই ও বোনেরা।
চালনি হাই স্কুলের পড়া শেষ করে নাদিয়া লুটন সিক্সথ ফর্ম কলেজে ভর্তি হন এবং ২০০৩ সালে ইংরেজি, মনোবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষায় এ লেভেল অর্জন করেন।
নাদিয়ার ইংরেজি ভাষার শিক্ষক পল ক্রস্টন বলেন, ‘সে তেমন একটা বদলায়নি। আমি স্মরণ করতে পারিযে সে ভীষণরকম ভদ্র, বন্ধবৎসল এবং অমায়িক। আপনি খাওয়ার জন্য যে ধরনের লোকের ওপর নির্ভর করতে চান সে তেমনই একজন।’
নাদিয়ার কান্না, তার প্রাণ খোলা হাসি, তার কৌতূক, তার একাগ্রচিত্ত্বতা এই প্রতিযোগিতার দশর্কদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ


gr







