বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

‘কাজিরবাজার সেতু সাইফুর রহমানের সময়োপযোগী উদ্যোগের সোনালী ফসল’


সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘নব উদ্বোধন হওয়া নগরীর কাজিরবাজার সেতু সফল অর্থমন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের সময়োপযোগী সাহসী উদ্যোগের সোনালী ফসল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আওয়ামী লীগের চিরাচরিত অভ্যাস “তোরা যে যা করিস ভাই, শুধু নামটি আমার চাই” এই নীতির কারনে আজ সাইফুর রহমানের অবদান একবারের জন্যও স্বীকার করা হলোনা। ইতিহাস স্বাক্ষী সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নের রূপকার অর্থমন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমান সুরমার দুই পাড়ের মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টির জন্য কাজিরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কাজ শুরু করেন।’

আবদুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কয়েক দফা নকশা পরিবর্তন করে সেতুটির যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করলেও একটি বারের জন্য এর স্বপ্নদ্রষ্টা মরহুম সাইফুর রহমানের নাম স্মরণ করেননি। যা সিলেটবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণের শামিল। এর মাধ্যমে দলগত মত পার্থক্য থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সিলেটের সহনশীলতার রাজনীতির ইতিহাসে কলংকের কালেমা লেপন করেছে আওয়ামী লীগ। সত্য স্বীকার করে সেতুটির নাম সময়ের শ্রেষ্ট সিলেটপ্রেমী মরহুম সাইফুর রহমানের নামে নামকরণ হলে সিলেটবাসী উচ্ছাসিত হবে।’


 আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেরা উন্নয়ন করতে না পারলেও নামকরণে পটু। সিলেট শহরকে একটি আদর্শ ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মরহুম এম. সাইফুর রহমান কার্যকর উদ্যোন নিয়েই ক্ষান্ত হননি। কাজ সম্পন্ন করে সফল হয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ থেকে সাইফুর রহমানের নামফলক ভেঙ্গে দেয়া, নাম বাতিল করার অপরাজনীতির জন্য আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে জনতার আদালতে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’

কেক দিয়ে সিলেটি নাদিয়ার ব্রিটেন জয়

লন্ডন: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ বেকিংয়ের এবারের শিরোপা জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হোসেইন।
গতকাল বুধবার ছিল যুক্তরাজ্যের তুমুল জনপ্রিয় টিভি প্রতিযোগিতা (রিয়েলিটি শো) ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ ২০১৫ (জিবিবিও)’-এর ফাইনাল রাউন্ডন।
প্রতিযোগিতাটি রাতে যখন বিবিসি ওয়ান চ্যানেলে দেখানো হচ্ছিল, তখন প্রায় দেড় কোটি দর্শক ছিলেন উদগ্রীব হয়ে।
তিন প্রতিযোগীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত নাদিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লেন। রানারআপ হয়েছেন ইয়ান কামিং ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তমাল রায়।
ব্রিটিশ কমেডিয়ান জো ব্র্যান্ডের হাত থেকে সেরার পুরস্কার নেন নাদিয়া। কেক-পেস্ট্রি তৈরির এই প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে ‘ক্ল্যাসিক ব্রিটিশ কেক’ বানাতে গিয়ে নাদিয়া বেছে নিয়েছিলেন বিয়ের কেক।
পরে প্রতিক্রিয়ায় নাদিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশে বিয়েতে কেকের প্রচলন খুব কম। আমার স্বামী আবদাল হোসেইন ও তিন সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী কেক বানিয়েছি।’
রানারআপ হওয়া তমাল ও ইয়ানও বলেছেন, নাদিয়ার পাওনা ছিল এই পুরস্কার।
ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার এটি ছিল ষষ্ঠ সিজন। চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন- ব্রিটিশ বেকের দুই জনপ্রিয় মুখ পল হলিউড ও ম্যারি ব্যারি।
তারা দুজনই বলেছেন, নাদিয়া শুরু থেকেই আশার আলো দেখিয়েছেন। প্রতিটি পর্বে তার একাগ্রতার ছাপ ছিল। এক কথায় অনন্য নাদিয়া।
শখের বশে কেক-পেস্ট্রি তৈরি করেন— এমন প্রতিযোগীদের নিয়েই এ আয়োজন। ধাপে ধাপে বাছাই শেষে ১২ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১০ সপ্তাহের এই প্রতিযোগিতা। এরপর তিনজন প্রতিযোগী উত্তীর্ণ হন চূড়ান্ত পর্বে।
সেই তিনজনকে নিয়েই বুধবারের এই আসরে সেরা হলেন প্রথম কোনো বাংলাদেশি। লন্ডনের অদূরে লুটন শহরে জন্ম নেওয়া নাদিয়ার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামে।

রাজন হত্যা মামলা: তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দিচ্ছেন ৪ জন

শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বুধবার দুপুর ১২টায় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে হাজির করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দেবেন স্থানীয় বাদেয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ইশতিয়াক আহমদ রায়হান, নিজাম উদ্দিন, অনন্তপুর গ্রামের আব্দুজ জাহির মেম্বর ও শেখপাড়ার বাসিন্দা পংকী মিয়া।
এর আগে ১ অক্টোবর এই আদালতে রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও জালালাবাদ থানার বরখাস্ত এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
এছাড়া ৪ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ওই দিন রাজনের মা লুবনা বেগমসহ চারজন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য দেন।
আদালত সূত্র জানায়, আগামী ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবরও সাক্ষ্য নেওয়া হবে। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জন।

গত ৮ জুলাই ভোরে ‘চোর’ সন্দেহে শিশু রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার গত ১৬ আগস্ট ১৩ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
পরে ২২ সেপ্টেম্বর আদালতের বিচারক চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় সৌদি আরবে আটক কামরুলসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় চার্জ গঠন করেন।
এদিন আদালতের বিচারক মামলার বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্নে ১, ৪, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

নতুন রুবেলদের সন্ধানে আবারো আসছে বিসিবির ‘পেসার হান্ট’

জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেন এক সময় ছিলেন পাদপ্রদীপের অন্তরালে, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ‘পেসার হান্ট' নামক কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রচারের আলোয় আসেন রুবেল হোসেন। এবার নতুন রুবেলদের সন্ধানে আবারো পেসার হান্ট কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি।
বুধবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পেসার হান্ট কার্যক্রমটা আমরা আবারো শুরু করতে যাচ্ছি। এবার এ কার্যক্রমে স্পন্সর হিসেবে পাচ্ছি ‘রবি’কে। তবে, কবে থেকে পেসার হান্ট শুরু হবে তা এখনো চুড়ান্ত হয়নি।’
সর্বশেষ ২০০৫ এবং ২০০৭ সালে জাতীয় দলের সাবেক কোচ সারওয়ার ইমরানের তত্ত্বাবধানে ‘গ্রামীণফোন পেসার হান্ট’ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। যা থেকে উঠে এসেছিলেন রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামদের মতো পেসাররা। নতুন পেসার হান্ট নিয়ে তাই আশায় বুক বাঁধতেই পারেন তরূণ পেসার ও ক্রিকেটপ্রেমীরা!

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট নগরীর সুরমা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত কাজিরবাজার সেতু বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্য দিয়ে উন্মেচিত হলো যোগাযোগের নতুন দ্বার। সেতুবন্ধন হলো সুরমার উত্তর দক্ষিণের বাসিন্দাদের মধ্যে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, তাদের সরকারের আমলে কেবল প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কাজিরবাজারের মতো এমন অনেক ব্রীজ আছে-যেগুলোর পিলার তোলার পর আর কোন কাজ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন- সম্পন্ন করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেট নগরীর সুরমা নদীতে কাজিরবাজার সেতুর উদ্বোধন এবং বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তÍর স্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সিলেট নগরীকে পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করছেন। সিলেট বিভাগীয় সদরের স্থাপনা আওয়ামী লীগ সরকার নির্মাণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেট জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দেশের বাইরে থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তার পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় আক্ষেপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার এমপি আল আমিন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেটের কুশিয়ার নদীর ওপর নির্মিত চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু ও সুনামগঞ্জে সুরমার ওপর নির্মিত সুরমা সেতুসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নয়টি সেতু উদ্বোধন করেন।

সওজ সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকায় কাজির বাজার নামকস্থানে সুরমা নদীর উপর ১৮৯ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত ‘কাজির বাজার পিসি গার্ডার সেতু’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের এপ্রিলে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। কিন্তু পরিকল্পনা ও ডিজাইন ছাড়া কাজ শুরু হওয়ায় কিছুদিন পরেই থেমে যায় সেতুটির নির্মাণ কাজ। এক পর্যায়ে এটা পরিত্যাক্ত সেতুতে পরিণত হয়।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নতুন ডিজাইন ও প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে পুণরায় সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজ সিলেটবাসীর এই কাঙ্খিত সেতুটি উদ্বোধনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে। কাজিরবাজার পিসি গার্ডার সেতুর উপর দৈর্ঘ্য ৩৯১ মিটার। ১৮ দশমিক ৯০ মিটার প্রস্তের সেতুটির স্পেন সংখ্যা ১০টি। রয়েছে ৯টি পিয়ার ও ২টি এবাটমেন্ট। সেতুর উভয় দিকে অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে ৮৬৫ মিটার। এর মধ্যে সেতুর উত্তর প্রান্তে ২৩০ মিটার ও দক্ষিণ সুরমা প্রান্তে রয়েছে ৬৩৫ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক। পাইল ফাউন্ডেশনের উপর নির্মিত পিসি গার্ডার এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তÍর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর।

তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যরিস্টার নাজমুল হুদা এর ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে সম্পন্নের কথা ছিল। সেতুর কাজ চলমান থাকাকালে ওয়ান ইলেভেনের সময় হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করে। এজন্যে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। প্রকল্প ব্যয় বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে তা দাঁড়ায় ১৮৯ কোটি ৭ লাখ টাকায়। এ সময় নগরীর শেখঘাটে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়ি রক্ষা করার জন্য সেতুর নকশা বদলও করা হয়। এ ছাড়া সেতুর দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয় ২৫ মিটার। সে সময় ব্যয়ও বাড়ে।

তবে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ১২৪ কোটি টাকা। অবশ্য এজন্য সেতুর প্রস্থ ১৯ মিটার থেকে কমিয়ে ১৮ দশমিক ৪ মিটার করা হয়। তবে দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ৩৯১ মিটারে উন্নীত করা হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজ হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক সেতু দেখতে ছুটে যাচ্ছেন।

সেতুর নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকবার সেতু পরিদর্শন করেন জানায় সওজ সূত্র।

২০১৪ সালের বিজয় দিবসের উপহার হিসেবে সেতুটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা হয়নি। তিন দফা তারিখ পেছানোর পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী সেতুটির উদ্বোধন করেন।

অন্যদিকে ৯ বছর ধরে বেহাল দশায় রয়েছে সিলেটের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ। সড়কটির উন্নয়নে উপজেলাবাসীর দাবি দীর্ঘদিনের। গত বছরে যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কটিকে ক্যান্সার আক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করেন। এ অবস্থায় রাস্তাটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করে গত ৭ এপ্রিল ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রকল্পটির দরপত্র আহবান করা হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। আগামী ৩ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে জানায় সওজ সূত্র।

সিলেট এসে গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চান প্রধানমন্ত্রী!

আবার যখন সিলেটে আসবেন, তখন গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন ইচ্ছাই ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি বিভিন্ন সময় সিলেট গেলেও গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খাওয়া হয়নি কখনো। এজন্য আমার আফসোস আছে। আমি আগামীতে সিলেট গেলে গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা খেতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সিলেটে সুরমা নদীর উপর নির্মিত কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধনকালে তার এই ইচ্ছের কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধন ও সিলেটের বিমানবন্দর-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। ভিডি কনফারেন্সে দেশের বাইরে থাকা অর্থমন্ত্রীও বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে পিলার গেড়ে নাটক করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। সেতু নির্মাণসহ সিলেটের যতো উন্নয়ন হয়েছে সব আওয়ামী লীগ করেছে। আগামীতেও সিলেটের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’ ভিডিও কনফারেন্সে সিলেট থেকে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। এসময় সিলেট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাংসদ ইমরান আহমদ, মাহমুদ-উস- সামাদ চৌধুরী কয়েস, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

রাতারগুল: পা ধরলেন ভক্ষক, ছেড়ে দিলেন রক্ষক!

রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই বনের তুলনা নেই। কিন্তু জীববৈচিত্র্যের অভয়ারণ্য এই জলাবনের ভেতরের গাছ কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র।

বন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে বনটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে একটি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও। যার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা নয়, উল্টো বন ভক্ষনের অভিযোগ উঠেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, কাঠ পাচারকারী নৌকার মাঝি স্থানীয় মহেষখেড় গ্রামের ইসলাম উদ্দীন পা ধরে আছেন এনজিও ক্রেলের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের। এ সময় শহীদুলের সঙ্গে থাকা নৌকার মাঝি রাতারগুল গ্রামের সোনা মিয়া ছবিটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সোনা মিয়া ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রাতারগুল বনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাতারগুল গ্রামবাসীর। এ কারণে শহীদুল ইসলাম আমাকে নিয়ে বনের ভেতরে টহলে বের হন। আমরা বিট অফিসের সামনে যাওয়ার পর দেখি একটি নৌকায় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে পাশের মহেষখেড় গ্রামের ইসলাম উদ্দীন। তাকে আমরা আটক করি। এ সময় শহীদুল ইসলামের নির্দেশে কাঠবোঝাই নৌকা থেকে দা উদ্ধার করি। পরে ইসলাম উদ্দীন ও শহীদুল ইসলামের আলাপচারিতায় ধারণা হয়, তারা পূর্বপরিচিত। তখন শহীদুল ইসলাম মহেষখেড় গ্রামের দুজন ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। খুব সম্ভবত মহেষখেড় গ্রামের রাতারগুল রক্ষার নামে একটি কমিটির মেম্বার আবদুল্লাহ অথবা সোহেল হবে। এরপরই ইসলাম উদ্দীন শহীদুলের পা ধরলে তিনি তাকে কাঠবোঝায় নৌকাসহ ছেড়ে দেন।’

সোনা মিয়া বলেন, ‘আমি শহীদুল ইসলামের কাছে ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাই এবং গাছ পাচারকারী ইসলাম উদ্দীনকে বিট অফিসে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহীদুল ইসলাম তাকে ছেড়ে দেন। এ ঘটনার পরদিন আমি একসময় ফরেস্ট অফিসে যাই এবং বিষয়টি বিটের দায়িত্বে থাকা হুমায়ূন (বর্তমানে মৃত) এবং গার্ড ইসহাককে জানাই। তারা আমাকে বলেন, যেহেতু শহীদুল ছেড়ে দিয়েছেন, সেহেতু আমাদের আর কিছু করার নাই। পরে আমার হাতে জব্দ থাকা দা’টি ফরেস্ট অফিসে জমা দিয়ে ফিরে আসি।’

এনজিও ক্রেলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাউকে আটকের দায়িত্ব নেই। আমি বন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করি। তাই ওই দিন পরিদর্শনের সময় নৌকাসহ পাচারকারীকে পাই। তারপর তাকে বলি, এভাবে তোমরা গাছ কাটলে বন ধ্বংস হয়ে যাবে, পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তোমরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না।’

গাছসহ পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন শহীদুল। গাছ কাটার দা’টি তাঁর নৌকার মাঝি সোনা মিয়া বন বিভাগের বিট অফিসে জমা দেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে রাতারগুল গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, রাতারগুল বনের ভেতরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবাধে গাছ নিধন, অবৈধভাবে মাছ আহরণসহ নানা অপকর্ম চলছে। পাশাপাশি বন দেখতে আসা পর্যটকরাও খাবারের পলিথিন ফেলে, গাছের ডালপালা ভেঙে, উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে এবং ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে প্রবেশ করে বনের পরিবেশ দূষণ করছে।

রাতারগুল রক্ষায় একটি আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভূমি সন্তান বাংলাদেশ’ রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, ‘রাতারগুল বন একটি বিশেষ ধরনের বন। শুরু থেকেই সিলেটের সর্বস্তরের পরিবেশকর্মীরা সরকারের কাছে এই বন রক্ষায় বিশেষজ্ঞ মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু বন বিভাগ এই বন রক্ষার চেয়ে প্রকল্প নিয়ে বেশি ব্যস্ত। তাই তাদের কাছে এই গাছ কাটা বা বন বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ মুখ্য বিষয় নয়। কেননা এই বনটিকে তারা একটি পুরোদস্তুর পর্যটন কেন্দ্র বানানোর পাঁয়তারা করছে। অথচ এই বনটি পর্যটন কেন্দ্রের চেয়ে একটি প্রাকৃতিক জাদুঘর হওয়া উচিত। যেখানে বন গবেষণা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চলবে।’

আশরাফুল আরো বলেন, ‘বন বিভাগ এবং ক্রেল প্রকল্পবাজির জন্যই এই বনে কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই বন বাংলাদেশের অন্যান্য বনের চেয়ে ভিন্ন। তাই এখানে কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া ক্রেল এই কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করতে কোনো ধরনের পরিবেশ কর্মী বা পরিবেশ বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়নি। শুধু শহীদুল নন, ক্রেলের আরো বড় যত কর্মকর্তা আছেন, সবাই বনদস্যুদের বন্ধু। কেননা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা যখন বনদস্যুদের আটক করে, তখন ক্রেলের কর্মকর্তারা তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন। তাহলে তাঁদের নিয়ে বন বিভাগ কীভাবে এই রাতারগুল রক্ষায় কাজ করছে?’

রাতারগুল পরিদর্শনের সময় ওই গ্রামের অনেকেই জানান, এই ঘটনার আগেও আরো একাধিকবার গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। গেল ২৯ সেপ্টেম্বর বিট অফিসে ক্রেল একটি সভার আয়োজন করে। সেখানে ক্রেলের কর্মকাণ্ড ও রাতারগুল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাতারগুল গ্রামের ঈসমাইল মিয়া ক্রেলের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সে মুহূর্তে ক্রেল ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন। পরে তিনি সভাটি প্রত্যাখ্যান করে বের হয়ে আসেন। বাইরে বেরোনোর পর শব্দ শুনে অফিসের পেছনে গেলে দেখেন দুজন ব্যক্তি বনের গাছ কাটছেন। তখন তিনি তাঁদের মারধর করেন। একপর্যায়ে সভাস্থল থেকে ক্রেলের সাইট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বের হয়ে আসেন। এ সময় তিনি ঈসমাইল মিয়াকে বলেন, ‘ওরা গরিব লোক, ভুল করে ফেলেছে। আর কখনো আসবে না, তাদের ছেড়ে দিন।’

তবে এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ক্রেলের কার্যক্রম নিয়ে রাতারগুল এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছিল আমাদের। তবে ওই দিন গাছ কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটলেও সে বিষয়ে আমি জানি না।’

প্রসঙ্গত, ইউএসআইডির একটি প্রকল্পের আওতায় ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইকো সিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) নামক এনজিও সংস্থাটি রাতারগুলে বন বিভাগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পের কাজ করছে।
-এনটিভি অনলাইন

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Design Blog, Make Online Money